শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি::
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সারা দেশের ন্যায় আগামী ১০ মার্চ লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। আর এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিন-রাত ভোটারদের দরজায় দরজায় যাচ্ছেন প্রার্থীরা, দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। প্রার্থীদের দৌড়ঝাপেরও যেন কমতি নেই। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতীক থাকলেও আ’লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যন প্রার্থীর থাকছে আনারস প্রতীক। তাই প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ ভোটাররাও কষে নিচ্ছেন নানা প্রকার হিসেব নিকাশ।
গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে একেএম মমিনুল হক বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মমিনুল হক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও জনগনের তেমন কোন উন্নয়ন বা সেবা করতে পারেন নি। তিনি বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার কারনে আ’লীগ সরকারের তেমন সুযোগ পাননি। তাই গত ৫বছরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কোন উন্নয়ন হয় নি। তাই বিএনপি মনোনীত মমিনুল হক সদর উপজেলার তেমন উন্নয়ন করতে পারেননি। এ কারনেই সদর উপজেলায় ভোটার ও সাধারণ জনগণ চেয়ারম্যান পদে ব্যক্তি ইমেজকেই বেশী প্রাধান্য দিচ্ছেন।
চেয়ারম্যন পদে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল হক পাটোয়ারী ভোলার নাম শোনা গেলেও আ’লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান সুজনকে এগিয়ে রাখছেন সাধারণ জনগণ। অপর দিকে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল হক পাটোয়ারী ভোলা সব সময়ই ভোটারদের ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের সকল প্রকার সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছেন এবং ভোটারদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। পিছিয়ে নেই কামরুজ্জামান সুজন তিনিও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের আস্থা অর্জনে সমর্থ হয়েছেন, দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। তাই নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে তামরুজ্জামান সুজনের জয়ের পাল্লা ততই ভারি হচ্ছে।
বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, লালমনিরহাট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগের প্রবীন রাজনীতিবীদ ইঞ্জিঃ আবু সাঈদ দুলাল এর একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন কামরুজ্জামান সুজন। এ সুবাদে সদর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের সাথে কামরুজ্জামান সুজনের রয়েছে মহেন্দ্রনগর, হারাটি, গোকুন্ডা, রাজপুর, খুনিয়াগাছ, পঞ্চগ্রাম, বড়বাড়ী, কুলাঘাট ও মোগলহাট ইফনিয়নবাসীর সাথে নিবিড় সর্ম্পক। শুধু তাই নয়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান সুজনের এক সময়ের ছাত্রলীগের রাজনীতিতে মাঠ কাঁপানো, তরুণ উদীয়মান জননেতা, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাসী ও মাঠে রয়েছে বিশাল কর্মীবাহিনী ও ক্লিন ইমেজ। এছাড়াও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দল পরিচালনায় অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দেয়ার পাশাপাশি কোন বিতর্কের ছাপ নেই কামরুজ্জামান সুজনের অতীত জীবনে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সভ্রান্ত পরিবারের সন্তান, সততা, দক্ষতা ও পিতা ভাষা সৈনিক, মহান মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ও শিক্ষক মৃত: মনিরুজ্জামান এর ক্লিন ইমেজ পুত্রের জয়লাভের ভিতকে শক্তিশালী করে তুলছে। অনেক প্রার্থীর নামে মাঠে-ঘাটে সমালোচনা উঠলেও সুজন এদিক থেকে রয়েছেন সবার উর্ধ্বে। ফলে এবার নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা কামরুজ্জামান সুজনকে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছেন।
সাধারণ জনগণ ও ভোটাররা বলেন, এবারের উপজেলা নির্বাচনে আমরা চেয়ারম্যান হিসেবে তাকেই ভোট দেব, যে আমাদের সাধারণ মানুষের সুখে-দুখে পাশে থাকবে এবং উপজেলার উন্নয়ন করবে। তাই আমরা এমন একজন প্রার্থীকেই ভোট দেব।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান সুজন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহার ছিল, গ্রাম হবে শহর সেই লক্ষকে সামনে রেখে, সকল প্রকার গ্রামীণ উন্নয়নের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখব ইনশাল্লাহ। আমি গত দশটি বছর ধরে বিরামহীনভাবে জনগণের সাথে কাঁধে কাধ মিলিয়ে একসাথে পাশে থেকেছি, থাকবো। নির্বাচনের প্রচারোনা চালিয়ে যাচ্ছি সেই সাথে আলøাহর রহমতে ভোটারদেরও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি এবং আশা করছি ভোটাররাও তার আশার প্রতিফলন ঘাঁবে। আমি আশা করছি সাধারণ জনগণ আগামী ১০মার্চ আমাকে রেকর্ড সংখক ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যন বিজয়ী করবে ইনশা আল্লাহ। তারপরেও সাধারন ভোটাররা মনে করছেন যদি আ’লীগের নেতাকর্মীরা নৌকার সাথে বেঈমানী না করে তাহলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত বলেও জানান। যদিও লালমনিরহাট সদর উপজেলায় আ’লীগের নেতাকর্মীরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাই আগামী ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কামরুজ্জামান সুজনের পাল্লাই ভারি দেখছেন সবাই।